রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসিন্দা ও বাসচালক মো. ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং হেলপার শাকিব হোসেনকে (২২) আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এস বি সুপার ডিলাক্স (নন-এসি) পরিবহনের বাস পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনায় ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামালসহ প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায়। এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুরের গাংনি থেকে ঢাকাগামী এস বি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ফেরিঘাটে পৌঁছায়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা মেনে প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ জন যাত্রী বাস থেকে নেমে ফেরির দিকে হেঁটে যেতে থাকেন।
এরপর চালক ঝন্টু আলী বাসটি স্টার্ট দিয়ে বেপরোয়া ও অবহেলাজনকভাবে চালাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নির্ধারিত ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’-এ ওঠার পরিবর্তে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে পাশে থাকা ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরিতে উঠে যায়। পরে ফেরির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা লাগলে র্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
নৌ পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগেই সুপারভাইজার ও হেলপার লাফিয়ে ফেরিতে উঠে যান। অন্যদিকে চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে পৌঁছালে নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে নদী থেকে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। পরে বাসটি জব্দ করে নৌ পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় বাসটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অধিকাংশ গ্লাস ভেঙে যায়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের কিছু ব্যাগ ও মালামাল পানিতে ভিজে যায়, ডুবে যায় অথবা হারিয়ে যায়।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নৌ-পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, দুর্ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মালামাল যাচাই-বাছাই শেষে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসআই/এসআর