তীব্র গরমে পর্যটক টানতে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দিচ্ছে। তবে এই বিশাল ছাড়ের লোভনীয় অফারও পর্যটকদের ধরে রাখতে পারছে না। মাত্রাতিরিক্ত ও অতিষ্ঠ করা লোডশেডিংয়ের কারণে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে পর্যটন নগরী ছাড়ছেন পর্যটকরা। তাদের অভিযোগ, দিনের ২৪ ঘণ্টার একটি বড় অংশই বিদ্যুৎহীন থাকছে।
কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের প্রধান অভিযোগ—ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের ভ্রমণের আনন্দই মাটি হয়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে ভোগান্তি বাড়ছে কয়েক গুণ।
ঢাকার বনানী থেকে আসা পর্যটক নয়ন চৌধুরী জানান, তিন দিন থাকার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে রুমেও শান্তি নেই, আবার জেনারেটরও বেশিক্ষণ ব্যাকআপ দিতে পারছে না। রাতে ঘুমের মধ্যেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়। বাধ্য হয়ে একদিনেই কক্সবাজার ছাড়ছি।
সাভারের পর্যটক রিয়াজুল কবিরের অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি বলেন, দিনের বেলায় ৮ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। ইনানী ও কক্সবাজার শহর—সবখানেই জেনারেটরের ব্যাকআপ ঠিকঠাক মিলছে না। বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছি।
অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হোটেলগুলোতে ব্যাকআপ সচল রাখতে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ লিটারেরও বেশি ডিজেল বা জ্বালানি তেল খরচ হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।
হোটেল প্যারাডাইসের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা মেহেদী জানান, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০ লিটার তেল লাগে, ফলে দৈনিক ১৪০ থেকে ১৫০ লিটারের বেশি তেল অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
ওশ্যান প্যারাডাইসের ম্যানেজার আব্দুল হান্নান বলেন, ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দেওয়ার পরও অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যটকরা আগেভাগেই চেক-আউট করে চলে যাচ্ছেন।
মেরিন ড্রাইভ-কলাতলী হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, সব হোটেলে জেনারেটর দিয়ে এসি চালানো সম্ভব হয় না। জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের লোকসান দিন দিন বাড়ছে।
লাবনী পয়েন্টের ছাতা মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. মোরশেদ বলেন, আগে যেখানে দিনে ৫০-৬০ হাজার টাকার বিক্রি হতো, এখন তা ১০ হাজারে নেমে এসেছে। সন্ধ্যার সময় আমাদের মূল বেচাকেনা হয়, অথচ তখনই বিদ্যুৎ থাকে না।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদের গণি জানান, কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনে প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু আমরা গড়ে ৩০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ পাচ্ছি। আজকের চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১৫ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। ফলে পৌরসভা ও পিডিবি এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে পর্যটন এলাকা বিবেচনা করে আমরা লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, এই লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিদিন পর্যটন খাতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। দেশের অন্যতম প্রধান এই অর্থনৈতিক ও পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরএন