লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক ইতালি প্রবাসীর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। হামলার সময় ঘর থেকে স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে জেলা শহরের একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইতালি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের বড় মেয়ে জুবাইদা গুলশান আরা মিলি লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম, তার চার মেয়েসহ পরিবারের ১৩ সদস্য আহত হন। আহতরা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণকাজ শুরু করলে প্রতিবেশী ও স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক জহির উদ্দিন মাহমুদ এবং তার স্বজনরা বাধা দেন। একপর্যায়ে তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় হামলার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে ঘর থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শাহনাজ বেগম বলেন, “আমাদের ওপর কয়েক দফায় হামলা করা হয়েছে। চার মেয়েকে নিয়ে আমি চরম আতঙ্কে রয়েছি। যেকোনো সময় হামলাকারীরা আরও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জহির উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। বিরোধপূর্ণ স্থানে নির্মাণকাজ না করার জন্য তিনি পরিবারটিকে অনুরোধ করেছিলেন। পরে তার ভাগিনা নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে উল্টো বহিরাগতদের দিয়ে তার ভাগিনা ও বোনের ওপর হামলা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টির সামাজিক সমাধানের পক্ষে মত দেন তিনি।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএইচআর/এসআর