লক্ষ্মীপুরের বশিকপুর ইউনিয়নকে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় স্থানান্তরিত না করে সদরের সঙ্গে স্থায়ী ভাবে রাখার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বশিকপুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, একই দাবিতে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানকে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। এই স্মারকলিপি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং পানি সম্পদ মন্ত্রীসহ আর ১০টি দপ্তরে প্রেরণ করেছেন।
মানববন্ধনে 'জামাই-বউয়ের দাবি একটাই, সদরে আছি, সদরেই থাকতে চাই', নিজের ঘর ছেড়ে পরের ঘরে যাবো না, সদর উপজেলাতেই থাকবো' এসব স্লোগান সংবলিত পেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন বশিকপুর ইউনিয়নবাসী।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সদর (পশ্চিম) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন, বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারী মমিনুল হক, বশিকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, জামায়াতের ইউনিয়নের আমীর মাইন উদ্দিন, সাংবাদিক এস এস আওলাদ হোসেন, ব্যবসায়ী মোশতাক আহমেদ সোহাগ, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মো. মোস্তফা ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহবার হোসেন জনি প্রমুখ।
বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, 'আমরা লক্ষ্মীপুর সদরে ছিলাম, সদর উপজেলাতেই থাকতে চাই। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের একটি বশিকপুর। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সঙ্গে চন্দ্রগঞ্জের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ জন্য বশিকপুরকে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় স্থানান্তর করা হলে আমরা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবো। এটা আমরা চাই না, আমরা সদরেই থাকতে চাই।'
বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান খোকন বলেন, 'চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা হোক এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমাদের আপত্তি হচ্ছে বশিকপুরকে সদর উপজেলায় রাখতেই হবে। এখানকার ৯৯ শতাংশ মানুষই সদর উপজেলাতে থাকতে চায়। আমাদের সদরে যেতে ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। আর চন্দ্রগঞ্জ গেলে আমাদেরকে ১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এটি আমরা কখনো মানবো না।'
সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে বশিকপুরসহ ৯টি ইউনিয়ন বিভক্ত করে ১৯ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সোমবার সদর উপজেলা ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের নাম্বার পুনর্নির্ধারণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
আরএইচ/এমএ