উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি তিস্তামুখ ঘাট থেকে জামালপুর জেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও নৌকা মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রোববার বেলা ১১টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলাবাসীর উদ্যোগে ফুলছড়ি তিস্তামুখ ঘাট এলাকার ক্রস বাঁধে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুলের সভাপতিত্বে এবং কমিটির সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান বাবুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতের আমির ও ফুলছড়ি সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম।
অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার, সাঘাটা-ফুলছড়ি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ, ফুলছড়ি উপজেলার সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকার, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান খুশু, ভরতখালি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আজাদ শীতল, গজারিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল আলম সরকার, গাইবান্ধা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শুকুর আলী ফিরোজ, সমাজসেবক মনিরুল ইসলাম টিপু, ফুলছড়ি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রওশানুজ্জামান রিপন, গজারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন বাবু, গজারিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কাজী আশরাফুল ইসলাম টিটু, সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ফুলছড়ি তিস্তামুখ ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট রুটে সেতু নির্মাণ হলে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আটটি জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এই রুটে সেতু নির্মিত হলে সরকারের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে এবং হাজার হাজার একর পতিত জমি ব্যবহারের আওতায় আসবে।
যাতায়াতের দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাবে উল্লেখ করে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন- এখানে একটি পরিকল্পিত ও টেকসই সেতু নির্মাণ কেন সম্ভব নয়, তা এখন সময়ের দাবি।
সভাপতির বক্তব্যে মাহামুদুন নবী টিটুল বলেন, 'সরকার বর্তমানে তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাটসহ আরও দুটি স্থানে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করছে। তবে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলে কেবল তিস্তামুখ ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাটের দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। প্রথম যমুনা (বঙ্গবন্ধু) সেতু নির্মাণের আগেও এই রুটটি অগ্রাধিকার তালিকার ১ নম্বরে ছিল।'
তিনি বলেন, 'উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলাতে তিস্তামুখ ঘাটে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে এটি এখন একটি গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।'
এছাড়াও, স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হাজারো সাধারণ মানুষ এই মানববন্ধন ও নৌকা মিছিলে অংশ নিয়ে দাবির প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সংহতি জানান।
এমএ