ময়মনসিংহে জামায়াত নেতার ছেলের ছুরিকাঘাতে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যাপাড়া গ্রামের গাঙ্গের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রানা মিয়া (২৮) একই এলাকার মৃত শরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং বিএনপির কর্মী ছিলেন বলে দাবি স্বজনদের।
নিহতের স্বজনরা জানান, জাতীয় নির্বাচনে রানা মিয়া বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেন। এরপর থেকে মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে রানা মিয়াদের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল।
তাদের দাবি, গত সোমবার মফিদুল মাস্টারের বাড়ির কয়েকজন তরুণ ফুটবল খেলা শেষে রানা মিয়াদের বাড়ির কাছের একটি দোকানে কোমল পানীয় কিনতে আসে। এ সময় দোকানে থাকা তরুণদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে রাতে জামায়াত নেতার পরিবারের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে রানা মিয়াদের এলাকায় হামলা করতে আসে। পরে জামায়াত নেতা নিজে গিয়ে বিরোধ মিটিয়ে চলে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াত নেতার ছেলে মো. মাহিন ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়ে এসে রানা মিয়াদের এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন রানা। পরে তাকে মমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছেন।
নিহত রানার বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'আমার ভাইকে বিনা কারণে মফিদুল মাস্টারের ছেলে ছুরি দিয়ে বুকে আঘাত করে। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।'
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মফিদুল ইসলাম বলেন, 'আমি বা আমার ছেলে ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম না। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।'
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান বলেন, 'ঘটনাটি আমরা জেনেছি। এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে ঘটেনি। গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে।'
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'প্রাথমিক ভাবে আমরা জেনেছি রাজনৈতিক বিরোধে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।'
এমএ