কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় দুই যুগ ধরে একটি ভাঙা সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ১৫ গ্রামের হাজারো মানুষ। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও রোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বেরুবাড়ীর ছড়ার ওপর ১৯৯৪ সালে এলজিইডির অর্থায়নে বাহেজের ঘাট সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি মীরের ভিটা, চর বেরুবাড়ী, মাস্টারপাড়া, মন্ডলপাড়া, সবুজপাড়া, আকন্দপাড়া, হাজীপাড়া, চেয়ারম্যানপাড়া, চর রহমানের কুটি, মাদারগঞ্জ, জালির চর, কাইয়ের চর, শোলমারীসহ অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল।
তবে ২০০৩ সালের ভয়াবহ বন্যায় তীব্র স্রোতে সেতুর পশ্চিম পাশের একটি বড় অংশ ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘদিন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকে। পরে ২০১৩ সালে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোত্তালেব নিজ অর্থায়নে সেখানে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের ব্যবহারে সেটিও এখন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সাঁকোর কাঠ পচে গেছে, পাটাতনে বড় বড় ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য অসাবধানতায় পা আটকে দুর্ঘটনা ঘটছে। সেতুর ভাঙা অংশে বাঁশের সহায়তায় খাড়া ঢাল বেয়ে ওঠানামা করতে হয়। বৃষ্টির সময় পিচ্ছিল হয়ে গেলে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান অভিভাবকরা। ফলে বছরের একটি বড় সময় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। বর্ষাকালে অনেকেই কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করেন, আর শুষ্ক মৌসুমে হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন।
চর বেরুবাড়ীর বাসিন্দা আব্দুল আলীম, মোহাম্মদ আলী, আয়নাল হক ও মনছুর আলী হোসেন বলেন, “সরকার আসে, সরকার যায়, জনপ্রতিনিধি বদলায়; কিন্তু আমাদের দুর্ভোগের শেষ হয় না। বহুবার দাবি জানানো হলেও নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ দেখা যায়নি।”
মীরের ভিটার আব্দুস শাফি ও আমজাদ হোসেন বলেন, “ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারে না। বৃদ্ধরা সেতু পার হতে গিয়ে আতঙ্কে ফিরে আসেন।”
মন্ডলপাড়ার রফিকুল ইসলাম ও মকবুল হোসেন জানান, রাতের বেলায় কেউ অসুস্থ হলে রোগীকে হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পাশাপাশি কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বেরুবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোলায়মান আলী বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুম শেষ হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএস/আরএন