বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে রামগড়-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক। কয়েক বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় জেলার রামগড় বাজার থেকে বাগানবাজার অংশের প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
গাড়িচালক ও যাত্রীরা বলছেন, বেহাল সড়কটির কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। রামগড়-ফেনী আঞ্চলিক সড়কের মাত্র ৪ কিলোমিটার রামগড়-বাগানবাজার অংশ, যা আগে ৫ মিনিটে অতিক্রম করা যেত, এখন সেখানে সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট। এ অবস্থায় দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রামগড়-বাগানবাজার অংশ ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে নানা সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে রামগড় বাজারসংলগ্ন হাইস্কুলের সামনে থেকে রামগড় স্থলবন্দর এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা একেবারেই বেহাল। প্রায় ৪ বছর ধরে সড়কটির এ অংশে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। একেকটি গর্ত ২ থেকে ৪ ফুট চওড়া এবং এর গভীরতা ৩ থেকে ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত।
জানা গেছে, রামগড় স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে রামগড়-বারইয়ারহাট সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে এ সড়কটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ধাপে ধাপে বারইয়ারহাট থেকে বাগানবাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করা হলেও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সীমান্ত সোনাইপুল থেকে রামগড় পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ অজ্ঞাত কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগ দুই-চার মাস পরপর ভাঙা সড়কে প্রাথমিক মেরামত করেই দায়িত্ব শেষ করছে।
পরিবহন চালকরা জানান, বাস-ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কের গর্তে পড়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সড়কের পিচ উঠে গেছে। পাথর ও সুরকিগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ফলে গাড়ি ব্রেক করলে স্লিপ করে দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব কারণে রামগড়-বাগানবাজার সড়কের এই ৪ কিলোমিটার এলাকা যান চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ব্যাটারিচালিত টমটম চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনাও ঘটে। স্কুল-মাদ্রাসাগামী ছোট ছোট শিশুরা আতঙ্কে থাকে। গাড়ি গর্তে পড়ে যাত্রীরা আহত হন।”
বাসচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কের মধ্যে রামগড়-বাগানবাজার অংশটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। টানা বৃষ্টি ও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার বহু ফাঁদ। গর্তে পড়ে গাড়ির স্প্রিং ভেঙে যায়, স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে থাকা জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।
সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কারণে স্থানীয়ভাবে স্থায়ী মেরামত বা নির্মাণকাজ হচ্ছে না। এতে দুর্ঘটনায় ছাত্রছাত্রী, পথচারী ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থায়ী মেরামত অথবা সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রামগড় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ধর্ম জ্যোতি চাকমা জানান, রামগড় স্থলবন্দর সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত থাকায় স্থায়ীভাবে নির্মাণকাজে কিছু জটিলতা রয়েছে। এ কারণে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগ জনদুর্ভোগ কমাতে কয়েক দিন পরপর প্রাথমিকভাবে মেরামত করে থাকে। বর্তমানে মেরামতকাজ চলমান রয়েছে। স্থলবন্দরকেন্দ্রিক সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প শুরু হলে এ সমস্যা আর থাকবে না। এছাড়া প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ বাস্তবায়ন করছে।
কেএস/আরএন