রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় আজ শনিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি গেইট একযোগে ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শনিবার সকাল ১০টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৪ দশমিক ০৮ ফুট এমএসএলে পৌঁছায়। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হ্রদের পানির প্রবাহ বাড়তে থাকায় পানি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে গড়ে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি টারবাইনের মাধ্যমে নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে পর্যায়ক্রমে গেইট আরও খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জলকপাট দিয়ে পানি ছাড়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলমগীর হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলামসহ কাপ্তাই পিডিবি ও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসআই/আরএন