রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে নূরজাহান বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার পচা-গলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁর যুগ্ম সচিব ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে।
বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে, অন্যথায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।
ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বর্তমানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। তিনি বলেন, “অবশ্যই বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। আইন অনুযায়ী যা করণীয়, সেটাই করা হবে।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রচলিত আইন ও বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরপর বুধবার রাতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
নূরজাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, এক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং এক মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখব। একটা আইন আছে, যেখানে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। সেটি কার্যকর থাকলে আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’
রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় নিজ ফ্ল্যাট থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। গত রোববার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে বৃদ্ধা ওই মায়ের পচা-গলা ও পোকা ধরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মায়ের সঙ্গে একই বাসায় পাশাপাশি রুমে বসবাস করলেও মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেননি মেয়ে।
পিতামাতার ভরণপোষণ আইনটি ২০১৩ সালের। ২০২৩ সালে এ আইনের বিধিমালাও করা হয়। আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে পিতামাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পিতামাতার একাধিক সন্তান থাকলে সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন। পিতা ও মাতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরিচর্যা করবেন। আইন না মানলে অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন বা অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এসআর