ভারতের ওপর নির্ধারিত বাণিজ্যশুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে আমার কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দেশ রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি করতেও ভারত প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি সম্মান এবং তাঁর সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের খাতিরে আমি তাঁর অনুরোধে সায় দিয়েছি। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক হবে ১৮ শতাংশ। খুব শিগগিরই এটি কার্যকর হবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ছিল ১৫ শতাংশ। ক্ষমতায় আসার পর ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন সব দেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার বাড়ানো হয়। সে সময় ভারতের ক্ষেত্রে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল।
এরপর রাশিয়া থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে গত বছরের আগস্টে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে।
এই হারে শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ কার্যত কঠিন হয়ে পড়ে। এতে বাধ্য হয়ে বিকল্প বাজার খোঁজা শুরু করে ভারত। গত মাসের শেষ দিকে ইউরোপের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি করে দেশটি, যেখানে মুক্ত বাণিজ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এমন প্রেক্ষাপটেই ভারতের ওপর শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমার প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে খুব ভালো লেগেছে। তিনি ভারতের ওপর নির্ধারিত শুল্ক ১৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন। এই চমৎকার পদক্ষেপের জন্য ১৪০ কোটি ভারতীয়ের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।”
আরএন