নিজের দুই ছেলের নামে নতুন দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা-সমালোচনার পর ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, “বিষয়টি অলৌকিকভাবে মিলে গেছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এ ধরনের ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নামকরণ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বহু আগ থেকেই রয়েছে। তিনি (সংসদ সদস্য মাসুদ) কেন আমার সন্তানদের সঙ্গে এটি জড়ালেন?”
সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সম্পূরক বাজেট পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলায় নতুন কয়েকটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে তার পরিবার বা মীর বংশের নামে, এবং দুটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে তার দুই সন্তানের নামে।”
পরে কার্যপ্রণালি বিধির ২৭৪ বিধি অনুযায়ী ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিয়ে অভিযোগের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা মোকামতলার সৈয়দপুর ও দেউলী ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরেই আয়তনে বড় ছিল এবং প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশ ও গণশুনানির ভিত্তিতে ইউনিয়ন দুটি বিভক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
তিনি আরও জানান, সৈয়দপুর ইউনিয়নের একটি অংশ গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’।
অন্যদিকে দেউলী ইউনিয়নের একটি অংশ গাইবান্ধা জেলার সীমানার কাছাকাছি এবং ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নতুন ইউনিয়নের নাম রাখা হয়েছে ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, “এ ধরনের নাম বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই প্রচলিত রয়েছে। মিরাক্যালি আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলেছে ঠিকই।
আমার সন্তানের নাম মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। তবে ইউনিয়নের নামকরণে কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল না। যদি আমার উদ্দেশ্য থাকত সন্তানদের নামে নামকরণ করার, তাহলে প্রশাসনকে বলতাম ‘মীর সীমান্ত’ ও ‘মীর দিগন্ত’ নাম রাখতে। কিন্তু ইউনিয়নের নামের আগে তো ‘মীর’ নেই।”