ধর্ষণের ঘটনায় কোনো ধরনের ছোট-বড় বিভাজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইনের দৃষ্টিতে সব ধর্ষণই সমান অপরাধ এবং প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ধর্ষণ ছোটও নয়, বড়ও নয়। সোহেল রানা আর জিসান—ধর্ষণের ক্ষেত্রে সবাই সমান। একটি ঘটনার বিচার চাইব, আরেকটির বিচার চাইব না, তা হতে পারে না।”
তিনি বলেন, সংসদে ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সে সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। বিরোধী দলের এক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ধর্ষণের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিবৃতি দিয়েছে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলো ধর্ষণের বিরুদ্ধে ছিল নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল—তা জনগণই মূল্যায়ন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় স্পিকার মন্ত্রীকে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “মন্ত্রী মহোদয়, আমরা এখন দুর্নীতি দমন কমিশন-সংক্রান্ত আলোচনায় আছি। অনুগ্রহ করে সে বিষয়েই বক্তব্য শেষ করুন।”
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতি ও ধর্ষণের প্রসঙ্গের মধ্যে তুলনা টেনে বলেন, আইনে যেমন উচ্চ বা নিম্ন দুর্নীতির কোনো পৃথক সংজ্ঞা নেই, তেমনি ধর্ষণের ক্ষেত্রেও ছোট বা বড় বলে কোনো বিভাজন নেই। সব ধরনের অপরাধই সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রসঙ্গে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি আরও কার্যকর ও শক্তিশালী কমিশন গঠনের লক্ষ্যে আগের অধ্যাদেশটি কার্যকর করা হয়নি। তবে পূর্ববর্তী আইন পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় সার্চ কমিটির মাধ্যমে দ্রুত কমিশনকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। পরবর্তীতে সংসদে নতুন আইন উত্থাপন করে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী দুদক গঠন করা হবে।
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে উপস্থাপিত শ্বেতপত্রে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। ব্যাংকিং খাতে লুটপাট ও রাজনৈতিক বিবেচনায় বিতরণ করা ঋণের অর্থ দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হতো। পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেবি/ এসআর