⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

X
সংগৃহীত ছবি
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের বহুল আলোচিত মামলায় ৬ আসামির প্রত্যেককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী দুই তরুণীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শরীয়তপুরের পালং থানার টিকুনী গ্রামের রাহুল (২৩), কেরানীগঞ্জের পূর্ব চড়াইল এলাকার মো. ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলক (২৫), বংশালের নাজিরা বাজার এলাকার মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং কেরানীগঞ্জের পূর্ব চড়াইল এলাকার মিনহাজ বাবু (২৪)।
আসামিদের মধ্যে প্রধান আসামি রাহুল বর্তমানে পলাতক। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে দুই তরুণী ও তাদের কয়েকজন বন্ধু দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে আসামিরা এসে তাদের পথরোধ করে। পরে বন্ধুদের মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং দুই তরুণীকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পর্যায়ক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এ সময় মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিওও ধারণ করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে একজন ভুক্তভোগী অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের বন্ধুরা পুলিশকে খবর দিলে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২৯ জুন এক ভুক্তভোগীর বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত চলাকালে র্যাব-১০ ও তদন্ত কর্মকর্তার যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মিনহাজ আবেদীনের মোবাইল ফোন থেকে ঘটনার মূল ভিডিও উদ্ধার করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনাল ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এছাড়া আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।