নিউইয়র্ক ক্লাইমেট উইকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজ খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (BSREA) সভাপতি হিসেবে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আলোচনা, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা ও জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাতে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত একটি ‘Renewable Energy Roundtable’-এ বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ। বক্তব্য দেন গ্লোবাল সোলার কাউন্সিল (GSC)-এর সেক্রেটারি ড্যানি কেনেডি, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (CEO) এবং রিনিউয়েবল এনার্জি কাউন্সিল এশিয়া-প্যাসিফিক (RECAP)-এর জন গ্রাইমসসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।
আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে নগণ্য। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ কোনো দয়া বা অনুদান চাইছে না; বরং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে ন্যায্য অধিকার ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।
একই সঙ্গে বিশ্বের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু খাতের নেতাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে আরও টেকসই ও আধুনিক করার সুযোগ রয়েছে বলে আলোচনায় তুলে ধরা হয়।
এ উদ্যোগে জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় তৈরিতে জাতিসংঘের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত তুলে ধরা হয়।
ক্লাইমেট উইকের বিভিন্ন কর্মসূচির ফাঁকে গ্লোবাল সোলার কাউন্সিল এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি খাতের নেতৃত্বের সঙ্গে Invest Bangladesh-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর একটি বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সুযোগ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজ খাতের সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার লক্ষ্যে BSREA, Invest Bangladesh এবং বিদ্যুৎ বিভাগ যৌথভাবে শিগগিরই একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনীর আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা বিশ্বব্যাপী আরও দৃশ্যমান হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নিউইয়র্ক ক্লাইমেট উইকের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে সামনে আনা হয়েছে।
এ উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এবং বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।