ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বাঘায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম
X
Advertisement

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস থেকে গ্রাহকদের মোবাইলে পাঠানো একটি বার্তাকে ঘিরে এ ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

বার্তায় জানানো হয়, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের বরাদ্দের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে ফিডার বন্ধ করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের এমন বার্তায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেক গ্রাহক। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলেও লোডশেডিং কমেনি; বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন জীবনে।

বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি থাকায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো বাঘাতেও দীর্ঘদিন ধরে লোডশেডিং চলছে।

এদিকে গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুতের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও বিল অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের দাবি, গত মাসে যেখানে তাদের বিল ছিল প্রায় ৩ হাজার টাকা, সেখানে চলতি মাসে তা বেড়ে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিল এখন ২ থেকে আড়াই হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

গ্রাহকদের ভাষ্য, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হওয়ার কথা। অথচ বাস্তবে বিল বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত বিল আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

প্রিপেইড ও ডিজিটাল মিটারের বিভিন্ন চার্জ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তাদের প্রশ্ন, নিজস্ব অর্থে মিটার কেনার পরও কেন মিটার চার্জ দিতে হবে। পাশাপাশি ‘ডিমান্ড চার্জ’ নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

গ্রাহকদের দাবি, ৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের জন্য সহনীয় ও অভিন্ন মূল্যহার নির্ধারণ করা হোক। অন্যথায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে। তাদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ বিলের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে জনঅসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ বিষয়ে বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বলেন, “বাঘা ও আড়ানী পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ২০ মেগাওয়াট। কিন্তু রাতে আমরা মাত্র ১০ মেগাওয়াট এবং দিনে ৭ দশমিক ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাচ্ছি। ফলে বাধ্য হয়ে পর্যায়ক্রমে একটি লাইন চালু রেখে অন্যটি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আর বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির বিষয়ে স্থানীয় অফিসের কিছু করার নেই, কারণ দুই মাস আগে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন মূল্যহার কার্যকর করা হয়েছে।

গ্রাহকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা প্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি সম্পর্কে গ্রাহকদের অবহিত করার জন্যই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ যাচাই, অযৌক্তিক চার্জ পুনর্বিবেচনা এবং লোডশেডিং কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

আরএইচএফ/এসআর
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement