বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির খবর এনে দিলেন দলের নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। আঙুলের চোট কাটিয়ে প্রথমবারের মতো দুই হাতে গ্লাভস পরে পূর্ণোদ্যমে অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন তিনি, যা বিশ্বকাপ মিশনের আগে আর্জেন্টিনার জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা।
গত ২০ মে অ্যাস্টন ভিলার ইউরোপা লিগ ফাইনালের আগে ওয়ার্ম-আপ চলাকালে ডান হাতের আঙুলে চোট পান মার্তিনেজ। পরে পরীক্ষায় জানা যায়, তার আঙুলে ভাঙন রয়েছে। চোট আরও গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও ব্যথাকে সঙ্গী করেই মাঠে নামার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক।
ফাইনালে দুর্দান্ত দুটি সেভ করে অ্যাস্টন ভিলার ঐতিহাসিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। তার দৃঢ়তা ও পারফরম্যান্সে ভর করে ১৯৮২ সালের পর প্রথমবারের মতো বড় কোনো ইউরোপীয় শিরোপা ঘরে তোলে ইংলিশ ক্লাবটি।
চোট নিয়েই জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিলেও এতদিন পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারেননি মার্তিনেজ। পুনর্বাসনের সময় আঙুলে স্প্লিন্ট ব্যবহার করেছেন এবং এক হাতে গ্লাভস পরে সীমিত অনুশীলন করেছেন। ফলে বিশ্বকাপের আগে তার ফিটনেস নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ ছিল আর্জেন্টিনা শিবিরে।
তবে বর্তমানে সেই উদ্বেগ অনেকটাই দূর হয়েছে। প্রথমবারের মতো দুই হাতে গ্লাভস পরে অনুশীলনে নেমে কোনো ধরনের অস্বস্তি ছাড়াই পুরো সেশন সম্পন্ন করেন তিনি। কোচিং স্টাফও তার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট বলে জানা গেছে।
চোটের কারণে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুটি প্রস্তুতি ম্যাচের কোনোটিতেই মাঠে নামতে পারেননি মার্তিনেজ। তবে আগামী বুধবার আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে দেখার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।
ক্লাব ফুটবলেও দারুণ এক মৌসুম কাটিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। ইউরোপা লিগ জয়ের পাশাপাশি প্রিমিয়ার লিগে অ্যাস্টন ভিলাকে চতুর্থ স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করতে সাহায্য করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ইউরোপা লিগের বর্ষসেরা একাদশেও।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার স্বপ্নপূরণে মার্তিনেজের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই তার সুস্থ হয়ে ওঠা শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং পুরো আর্জেন্টিনা দলের জন্যই এক বড় স্বস্তির বার্তা।
আরএন