বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ ইন’ ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সংসদে কোনো বিষয় উত্থাপিত হলে সে বিষয়ে মন্তব্য করা তার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না; এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই বক্তব্য দেবে।
শুক্রবার কলকাতার নিউটাউন এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। এ সময় ‘পুশ ইন’ ইস্যু এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।
ভারতের দৃষ্টিতে যাকে ‘পুশ ব্যাক’ বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে সেটিই ‘পুশ ইন’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত বিজিবি-বিএসএফের ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় এলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসেনি। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’-এর প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করছে। একই সঙ্গে আগামী ১৪ জুন জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের সম্ভাবনার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একটি বাইরের দেশের সংসদে কোন বিষয় উত্থাপন করা হবে, সেটা আপনার মুখ থেকে শুনছি। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। যদি এমন কিছু হয়ও, তার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্ত শুধু পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে নয়, আরও পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গেও রয়েছে। ফলে এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ হলো ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রয়োজন হলে তারাই মন্তব্য করবে।”
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের বিষয়েও কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রতিদিনই বিএসএফের কাছে জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ‘চিকেন নেক’ করিডরের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব কাজ শেষ করা হবে, কারণ এটি দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বিষয়।”