২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতে বিনিয়োগকৃত কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের মতো ‘বিশেষ কর’ সুবিধা রাখা হয়নি। নিয়মিত হারে কর পরিশোধ করে অতীতে বিনিয়োগকৃত অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তাদের প্রথম বাজেট।
এর আগে প্রস্তাবিত বাজেটটি অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এ বাজেট সংসদে পাস হবে ৩০ জুন।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। নানা সমালোচনার মুখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেই হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় এসে অন্তর্বর্তী সরকার এই সুযোগ বাতিল করে।
ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি সরকার তাদের প্রথম বাজেটে কালো টাকা প্রদর্শনের সুযোগ দিয়েছে। এ জন্য আয়কর আইনে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করলে তা আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাকে ক্রয়কৃত স্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য এ হার ৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে, কোনো বিক্রেতা জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রির সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করে থাকলে তাকে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনী কর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছু শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। স্বপ্রণোদিত ঘোষণা দেওয়ার আগে আয়কর আইন অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি তিন বছর আগে ঢাকায় ২ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। কিন্তু দলিলে তিনি ক্রয়মূল্য ৫০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। বাকি দেড় কোটি টাকার তথ্য গোপন করেছেন। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এটি অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই ব্যক্তি যদি দেড় কোটি টাকা রিটার্নে প্রদর্শন করতে চান, তাহলে তাকে ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা আয়কর পরিশোধ করতে হবে। আর আয়কর বিভাগ যদি ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য উদ্ঘাটন করে এবং এরপর করদাতা রিটার্নে এর ঘোষণা দিতে চান, তবে তাকে অতিরিক্ত ৯ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে, কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিক্রেতার ক্ষেত্রে দেড় কোটি টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনী কর দিতে হবে। আয়কর বিভাগ যদি ফ্ল্যাটের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য উদ্ঘাটন করে এবং এরপর বিক্রেতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রিটার্নে তা ঘোষণা করতে চায়, তবে তাকে অতিরিক্ত সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
এই পদ্ধতিতে অতীতে বিনিয়োগকৃত কালো টাকা প্রদর্শন করা হলে বাংলাদেশের প্রচলিত অন্য কোনো আইনে বিনিয়োগ, সম্পত্তি ক্রয় বা অর্থ প্রাপ্তির উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। তবে স্বপ্রণোদিত ঘোষণার আগে বাংলাদেশের কোনো আদালত যদি ঘোষণাকারীকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে থাকে অথবা তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকে, তাহলে তিনি আইনের এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।