প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে একটি ‘চিন্তাশীল বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তবে তাঁর মতে, বাজেটের নীতিগত দিক ও লক্ষ্যগুলো ইতিবাচক হলেও এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ভিত্তি যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর সংসদ ভবনের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই চিন্তাশীল বাজেটের মূল যে নীতিকাঠামোর দিক, তাতে আপনারা দেখবেন যে একটা অর্থনৈতিক স্থিতায়নের জন্য এক বছরের সময়ের কথা বলা হচ্ছে। আরও তিন বছরের পুনরুদ্ধারের সময়ের কথা বলা হচ্ছে এবং আরও এক বছর এটাকে বিনির্মাণের কথা বলা হচ্ছে। তো যে সমস্ত পদক্ষেপের কথা এখন পর্যন্ত এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে সরকার অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য আনার জন্য বিনিয়ন্ত্রণ এবং একই সাথে উদারীকরণের ওপর বড় জোর দিয়েছে।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আরেকটা বিষয় আছে, সেটা হলো, আপনার এটার ভেতরে একটি মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। সে জন্য বিভিন্ন বরাদ্দের উল্লেখ আছে। যুবসমাজ, পিছিয়ে পড়া মানুষ, এদের কথাও একই সাথে যুক্ত হয়েছে। আর তৃতীয় যেটা বিনিয়ন্ত্রণ এবং মানবিকতার পাশে এসছে, সেটা হলো ডিজিটালাইজেশন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির বিষয়। আমি এই তিনটি বিষয়কে চিহ্নিত করছি। কিন্তু বিষয়টা এখানে না। নীতিকাঠামো নিঃসন্দেহে খুবই শক্তিশালী এবং সেই অর্থে সূক্ষ্মভাবে বিচক্ষণের সাথে তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই নীতিকাঠামোকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে আর্থিক ভিত্তি, যে আর্থিক কাঠামো, সেটা অত্যন্ত দুর্বল। কারণ, এটার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেই।’
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘...শেষ বিচারে এই বাজেটের বাস্তবায়নটাই তো বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে এবং এই সুন্দর বাজেটটিকে আগামী দিনে কীভাবে উনারা বাস্তবায়ন করেন, সংস্কারের পথে যেয়ে সেটাই দেখতে চাই। সুন্দর বাজেট, আমি এটাকে চিন্তাশীল বাজেট বলছি। কিন্তু এইটার ভিত্তি এই চিন্তাটাকে বাস্তবায়ন করার ভিত্তি আর্থিকভাবে দুর্বল।’
এসআর