পটুয়াখালীর বাউফলে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) স্বাক্ষর জাল করে ৯০ একর খাসজমি লিজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের এক জামায়াত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৯০ একর খাসজমি এক বছরের জন্য লিজ দেওয়ার একটি কথিত আদেশকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ আসে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা সাইফুল ইসলাম সহকারী কমিশনারের (ভূমি) স্বাক্ষর জাল করে ওই জমি লিজ নেওয়ার একটি আদেশপত্র তৈরি করেছেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সাইফুল ইসলাম উপজেলা ভূমি অফিসে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। সাইফুল ইসলামের দাবি, তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরে পুলিশ স্থানীয় জামায়াত নেতাদের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়।
এদিকে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) স্বাক্ষর জাল করে ৯০ একর খাসজমি লিজ নেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চরাঞ্চলের খাসজমি লিজ দেওয়ার অনিয়ম চলছে। এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকরা খাসজমি লিজ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিস থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও চক্র নামে-বেনামে খাসজমি লিজ নিয়ে পরে তা তরমুজ চাষিদের কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেন, “সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এএস/এসআর