পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার শিকার দুই পরিবারের ১০ সদস্য তিন দিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শুন্য রেখায় মানবেতর অবস্থায় থাকার পর অবশেষে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা তাদের সরিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
সোমবার সকালে নীলফামারীর ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে শুক্রবার ভোরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী শুন্য রেখায় অবস্থান নেয়।
ওই ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুইজন শিশু ছিল। টানা তিন দিন খোলা আকাশের নিচে ঝড়-বৃষ্টি, তীব্র রোদ ও গরমের মধ্যে তারা মানবেতর জীবনযাপন করেন।
স্থানীয়দের দাবি, রোববার গভীর রাতে ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের টিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার আলো নিভিয়ে তাদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
বড়বাড়ী সীমান্তের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান বলেন, দিনের প্রচণ্ড গরম আর রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে তাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্কও বিরাজ করছিল। তাদের সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।
এদিকে মানবিক কারণে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা ওই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। স্থানীয়রা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেন। শিশুদের দুর্ভোগ এবং পরিবারগুলোর অসহায় অবস্থা সীমান্তবাসীর মধ্যে গভীর সহানুভূতির সৃষ্টি করে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, খোলা আকাশের নিচে তিন দিন কাটানো শিশুদের করুণ চেহারা উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে গেছে। সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের খাবার ও পানির ব্যবস্থা করেন।
নীলফামারীর ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোববার দিবাগত রাত ২টার পর বিএসএফ শুন্য রেখা থেকে তাদের সরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুশইন বা যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সীমান্ত এলাকায় এমন মানবিক সংকটের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, নারী ও শিশুদের এ ধরনের অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে ফেলাটা অত্যন্ত অমানবিক এবং উদ্বেগজনক।
এসআই/আরএন