লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় তেগাছিয়া সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে এক বছরেও সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রামগতি, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানির স্রোতে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর থেকে তিন উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের তেগাছিয়া বাজারসংলগ্ন গাবতলী খালের ওপর নির্মিত ৪০ মিটার দীর্ঘ তেগাছিয়া সেতুটির পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কয়েক মিটার অংশ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তীব্র জোয়ারে ভেঙে যায়। এরপর থেকে রামগতি, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ফলে চরগাজী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা, টাংকি বাজার, চৌরাস্তা বাজার, হাতিয়া বাজার, রামগতি ব্রিজঘাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও বয়ারচর এলাকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
জানা যায়, ২০০২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট (সিডিএসপি) প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করে। সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়রা কাঠের পাটাতন তৈরি করে সীমিত চলাচলের ব্যবস্থা করলেও কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। টাংকি বাজার মাছঘাটের শতাধিক ব্যবসায়ী এবং তেগাছিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। রামগতি ও নোয়াখালী থেকে মালবাহী যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় পণ্য একাধিক ধাপে বহন করতে হচ্ছে, ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে।
এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আটটি মাদরাসার শিক্ষার্থী, রোগী এবং সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে।
তেগাছিয়া বাজারের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ও চরগাজী ইউনিয়নের বাসিন্দা বাবুল বলেন, সংযোগ সড়কটি দ্রুত সংস্কার না করলে আগামী বর্ষায় মূল সেতুটিও ঝুঁকিতে পড়বে। দীর্ঘদিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ জানান, সেতু ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের বিষয়ে এলজিইডি, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য সেখানে একটি বেইলি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, সেতুটি একাধিকবার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জেলা কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বেইলি সেতুর প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরএমবি/ এসআর