নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) মামলার এজাহারভুক্ত ২৪ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিম ওরফে বাবুর নেতৃত্বে বাঁধেরহাট বাজারের জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর সুধারাম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা রুজুর পর শুক্রবার দিবাগত রাতে এজাহারভুক্ত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শনিবার দিবাগত রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”
এদিকে ছাত্রলীগের ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লকিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষ চলাকালে আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয় এবং বিএনপির এক কর্মীর মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন।
এমআর/এসআর