কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের নাওডাঙ্গা গ্রামে গভীর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আটক যুবকের নাম খোকন মিয়া। তার বাড়ি উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের মিয়াপাড়া মাস্টারপাড়া গ্রামে। জানা যায়, তিনি এবং তার প্রেমিকা উভয়েই নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে খোকন মিয়া প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যান। এ সময় বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের নজরে এলে তাকে আটক করা হয়।
প্রেমিকা দাবি করেন, প্রায় আট মাস ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অসুস্থতার কথা বলে ওই যুবক তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়েছেন। তিনি বলেন, “গত রাতে সে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আটক করে। আমি তাকে ভালোবাসি, সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি বাঁচব না।”
অন্যদিকে আটক যুবক খোকন মিয়া দাবি করেন, তাদের সম্পর্কের বয়স চার থেকে পাঁচ মাস। তিনি বলেন, “আমি তাকে ভালোবাসি। পরিবারের সম্মতি পেলে বিয়ে করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে এখনই বিয়ে করলে সমস্যায় পড়তে হবে। সামনে আমার এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, তার কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি এবং তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্কও হয়নি।
প্রেমিকার বাবা ও জ্যাঠা জানান, গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই যুবককে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
স্থানীয় সহকারী শিক্ষক বজলুর রহমান বলেন, “দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। মেয়েটির পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হলে সমস্যা সমাধান হতে পারে।”
ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বাবু জানান, রাত থেকেই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে এখনো ছেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “তারা দুজনই একে অপরকে ভালোবাসে। দুই পরিবারের সম্মতিতে সমাধান হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন, এখনো কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসিআর/এসআর