বিগত সরকারের ভুল নীতির কারণে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, এর পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিও বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আমদানি ও রপ্তানি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্য তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর নির্ভরশীল এবং রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ এ খাত থেকে অর্জিত হয়।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ হতে ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।
জসীম উদ্দীন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি তিন বছর ধরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের ঘরে আটকে আছে। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরের পর প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যায়নি। এতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা কমেছে এবং খাতটির সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বছর কোরবানির পশুর সংখ্যা নিয়ে সরকারের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে প্রায় এক কোটি এক লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। বর্তমান বিবেচনায় তা সন্তোষজনক।
মন্ত্রী আরও বলেন, কোথাও সংরক্ষিত চামড়া বিক্রি না হলে সংসদ সদস্যরা জানালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা বিক্রির ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবে সরকার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ও ৫৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়। প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের এই বাণিজ্যের মধ্যে ঠিক কোন পণ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে, সেটা পিনপয়েন্ট করা গবেষণার বিষয়।
এসআর