সাভার পৌর এলাকার ছায়াবিথি মহল্লার একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে রিয়া মনির (১৯) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী, স্থানীয় ছাত্রদল নেতা রনি ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
সোমবার বিকেলে পৌরসভার ছায়াবিথি মহল্লার ডা. তৌহিদুজ্জামানের বাড়ির দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
নিহত রিয়া মনির নোয়াখালীর মাইজদী থানার রৌফ চৌধুরীর মেয়ে। তার বাবা-মা দুজনই প্রবাসে থাকেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, রিয়ার স্বামী সদ্য ঘোষিত পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রনি ইসলাম তাকে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌরসভার ছায়াবিথি এলাকার ওই ভাড়া ফ্ল্যাটে রনি ইসলাম ও রিয়া মনির দম্পতি বসবাস করতেন। গত কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে জানা গেছে। এরই জেরে রিয়াকে হত্যা করে ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে পালিয়ে যান রনি—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেন বলেন, রনি ইসলাম সম্প্রতি পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ার পর থেকেই রিয়ার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। পারিবারিক বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, রনি হত্যার বিষয়টি তার মাকে মোবাইল ফোনে জানানোর পর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এরপরই পুলিশকে জানানো হয়।
তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে রনির মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি আত্মগোপনে আছেন।
নিহতের নানি জাহানারা বেগম বলেন, “আমাদের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী বলেন, খবর পেয়ে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, রাজনৈতিক পদধারী এক নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ওএফ/এসআর