পটুয়াখালীর বাউফলে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) উপজেলার বগা এলাকার নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে সিরাজুল ইসলামের কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছিল না। রোববার তার বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে একটি চেয়ারে বসা অবস্থায় মৃত দেখতে পান।
ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর অন্তত দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় চেয়ারে বসা অবস্থায় মরদেহের নিচে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের সন্তানরা সবাই কর্মজীবী। ছেলে সোহাগ বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত, আরেক ছেলে শহিদুল একটি ব্যাংকে চাকরি করেন এবং মেয়ে ইসরাত জাহান ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্ত্রী নুরজাহান বেগমও সন্তানদের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থান করতেন। ফলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করছিলেন এবং মাঝে মাঝে ঢাকায় যেতেন।
স্থানীয়দের মতে, পরিবারের সদস্যরা কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করলেও বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা নিজ বাড়িতেই একাকী সময় কাটাতেন। তার এমন নিঃসঙ্গ মৃত্যু এলাকায় শোক ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি চাই না আমার বাবাকে নিয়ে কোনো নেতিবাচক বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ হোক। তিনি বাউফল ও ঢাকায় যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বাড়িতে যান। সেখানেই এ ঘটনা ঘটে।”
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং পায়ে সংক্রমণ ছিল। মরদেহ উদ্ধার শেষে পুলিশি কার্যক্রম সম্পন্ন করে রোববার রাতেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়েছে।
এএস/এসআর