বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ বিষয়ক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কৌশল, সদস্য অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, “সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যরা আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।”
তিনি চাকরিনির্ভর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম কার্যকর উপায় হলো উদ্যোক্তা উন্নয়ন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় সম্ভাবনাময় উদ্যোগ গ্রহণ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারবেন।
তিনি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের আন্তরিকতা, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি প্রকল্পের সূচনা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, এলাকা-ভিত্তিক উদ্যোগ নির্বাচন, সদস্যদের অংশগ্রহণ ও শ্রমের মূল্যায়ন, লভ্যাংশ বণ্টন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ, সদস্যপদ ত্যাগ বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনুসরণীয় প্রক্রিয়া এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
আনসার ও ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক এনামুল খাঁন প্রকল্পের সদস্যপদ, সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া, প্রকল্প পরিচালনা কাঠামো, ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ পদ্ধতি এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থাপনা করেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে টিএমএসএস-এর পরিচালক মো. রেজাউল করিম বক্তব্য দেন। তিনি প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিভিন্ন সফল উদাহরণ তুলে ধরেন এবং আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে টিএমএসএস-এর চলমান ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের বিষয়ে আলোকপাত করেন।
এছাড়া আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সঞ্জীবন প্রকল্পে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা, ঋণ বিতরণ, কিস্তি আদায় এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সহায়তা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
সমাপনী পর্বে উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) জুম অ্যাপের মাধ্যমে এবং সরাসরি উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর ও উন্মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’কে সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং টেকসই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা বলেন, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন, স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
এমআর/ এসআর