Thursday | 4 June 2026 | Reg No- 06
Epaper | English
   
English | Thursday | 4 June 2026 | Epaper
BREAKING: যেসব গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার       প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি: গ্রেপ্তার ২      আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার প্রমাণ স্পষ্ট: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      বন্ধ কল কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত      রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার      যুবদলের সভাপতি মুন্না, সম্পাদক নয়ন       বিহারে আইসিইউতে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৪      

বেড়েই চলেছে ব্যয়

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ২:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ৩০)

প্রতীকী ছবি

ইরান যুদ্ধের কারণে সরকার এরই মধ্যে দু'বার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরই এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সার্বিক ভাবে এই দাম বৃদ্ধির ফলে জনজীবনের ওপর পড়তে যাচ্ছে বড় চাপ।

বিদ্যুতের নতুন দাম বৃদ্ধি বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, আবাসিকের গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

আর আবাসিকের লাইফলাইন গ্রাহকের বর্তমান ইউনিটপ্রতি বিল ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। এতে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল মাসে ৩৫ টাকার মতো বৃদ্ধি পাবে।

আর আবাসিকে যারা ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তাদের বিল বাড়বে প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ টাকা। আনুপাতিক হারে বাড়বে ভ্যাটের পরিমাণও।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, 'বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হলে নিঃসন্দেহে জনজীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরে মূল্যস্ফীতি হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সময় গণশুনানিতে যখন আমরা অংশগ্রহণ করি তখন দাম না বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের অবস্থান শক্ত ছিল। ক্যাবের প্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের যারা দাম না বাড়ানোর কথা বলেছিলাম সরকার কারও কথার মূল্যায়ন করেনি।'

তিনি বলেন, 'এখন যে দাম বৃদ্ধি করা হলো তা ৫০ ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ ইউনিটের ওপর মূল্য বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি স্তরেই এর প্রভাব পড়বে। বিদ্যুতের সঙ্গে পরিবহন ভাড়াও জড়িত। ঢাকায় প্রচুর ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলছে। এর প্রভাবে ভাড়াও বৃদ্ধি পাবে। আর ভাড়া বৃদ্ধি পেলে তা দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে জনজীবনের প্রতি জায়গায় প্রভাব ফেলবে। সরকার ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ চুরির বিষয়ে কোনো কাজ করছে না। এ জায়গা থেকে ভর্তুকির কিছুটা দেওয়া যেতে পারে।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রেজওয়ান সেলিম বলেন, 'বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে। সমস্যা হচ্ছে যে অর্ডারগুলো এখন আমরা তৈরি করছি তা আরও তিন মাস আগের। সে সময় জ্বালানি খরচ এক রকম ছিল এখন বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে খরচ আরও বাড়বে। ফলে সার্বিক ভাবে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর এবার অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বুধবার দাম বৃদ্ধির এই ঘোষণা দেয়। তেলের পর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপে পিষ্ট সাধারণ গ্রাহকদের ওপর নতুন করে আবারও বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

তারা বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকার সাধারণ গ্রাহকদের বিষয়টি মোটেও চিন্তা করেনি। এমনকি সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী কারও মতামতেরই মূল্যায়ন করেনি। এতে পণ্য উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি পাবে, জনজীবনের ওপর পড়বে বড় চাপ।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ আর গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ হারে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। আর পাইকারি মূল্য ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা। সঞ্চালন চার্জ ০ দশমিক ৩১৩৫ টাকা/কি.ও.ঘ থেকে ০ দশমিক ০৭৫১ টাকা/কি.ও.ঘ. বেড়ে হয়েছে ০ দশমিক ৩৮৮৬ টাকা/কি.ও.ঘ.। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বনিম্ন লাইফলাইন গ্রাহকের ১৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি জুন মাস থেকেই এই দাম কার্যকর হচ্ছে। তবে গ্রাহকশ্রেণিভিত্তিক বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত থাকছে। 

রাজধানীর রমনায় বিইআরসির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বুধবার দুপুরে এই ঘোষণা দেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর দাম বৃদ্ধির কোনো চাপ ছিল না। বাজেট মাথায় রেখে দ্রুত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে। দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা করার সুযোগ আছে।’

নতুন খুচরা মূল্যহার অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের লাইফলাইন বা শূন্য থেকে ৫০ ইউনিটের দাম ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। আর আবাসিক গ্রাহকদের প্রথম ধাপে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটে ৯টাকা ১০ পয়সা, চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটে ৯ টাকা ৬২ পয়সা, ৫ম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটে ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ৬ষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেচ ও কৃষি কাজে ব্যবহৃত পাম্পের জন্য নিম্নচাপে ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের নিম্নচাপে ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা, অফপিকে ১৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং পিকে ১৮ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা, ধর্মীয়, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৭ টাকা ৫৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা শূন্য পাঁচ পয়সা করা হয়েছে। রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের ক্ষেত্রে ৯ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা করা হয়েছে। ক্ষুদ্রশিল্পের ক্ষেত্রে ১১ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা করা হয়েছে। নির্মাণ শিল্পে ১৫ টাকা ১৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা শূন্য ৯ পয়সা করা হয়েছে। ইলেকট্রিক ভেহিকেল ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনে ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা করা হয়েছে।

এমএ




LATEST NEWS
MOST READ
আরও পড়ুন
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000.
Phone: PABX- 41053001-06; Online: 41053014; Advertisement: 41053012.
E-mail: district@dailyobserverbd.com, news©dailyobserverbd.com, advertisement©dailyobserverbd.com, For Online Edition: mailobserverbd©gmail.com
🔝
close