📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:
মামলা জটিলতায় ৩২৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত: শিক্ষামন্ত্রী
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
X Advertisement

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার কারণে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলার কারণে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও স্থগিত রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মামলার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২৮৭ জন শিক্ষককে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে আপনি ৩২ হাজার ৫০০ স্কুল খালি রাখলেন। ২৮৭ জনকে যদি আপনি মনে করতেন মানহীন, তাহলে পিটিআই আছে—সেখানে ট্রেনিংয়ে পাঠিয়ে দেন। আপনি আপডেট করতে পারতেন না? চ্যালেঞ্জ করলেন, ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া আর হলো না।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘এতগুলো প্রধান শিক্ষকের পদ তো এক বছরে খালি হয়নি; বরং বছরের পর বছর নিয়োগ না হওয়ার কারণে এই দশা। ফলে একদিকে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নেমেছে, অন্যদিকে তৈরি হয়েছে ব্যবস্থাপনার সংকট।’

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া যেসব উপজেলায় পরীক্ষায় পাসের হার বেশি হবে, সেসব এলাকার সংসদ সদস্যদের গোল্ড মেডেল দেওয়া হবে।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ২০ জুলাই মাধ্যমিক ও সমমানের (এসএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটি স্কুলে ৪ লাখ টাকা করে বছরে ৪৮ লাখ টাকা দিচ্ছে সরকার। তারপরও একটি ছাত্র পরীক্ষা দেবে না এবং ১০০ শতাংশ ফেল করবে, এটা কি হতে পারে? সরকারের টাকার জবাবদিহি থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানে ছেলেমেয়েরা পড়ছে না, তো সরকার কেন জরিমানা দেবে?’

বিভিন্ন কলেজে অনার্স কোর্স চালুর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘যেকোনো স্কুল-কলেজ থেকে এসে বলে অনার্স দেন। সংসদ সদস্যরা এসে বলেন অনার্স দেন। সাবজেক্ট কী? সাইকোলজি, ফিলোসফি, হিস্ট্রি, ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার। এই চার-পাঁচটা বিষয়ের বাইরে কোনো বিষয় তারা খুলবে না। আমার এখন ৫৬টি পাবলিক ইউনিভার্সিটি রয়েছে। ১১৬টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে। তারপরও আমাকে এই বিষয়গুলো কলেজে কলেজে কেন খুলতে হবে?’

সম্প্রতি ইউনিসেফের একটি কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা শুধু আমাদের কাছে আসেন এই ইউনিভার্সিটি খুলতে হবে, জেলা লেভেলে ইউনিভার্সিটি খুলতে হবে এবং অনার্স কলেজ দিতে হবে এবং কলেজগুলোকে সরকারি বানাতে হবে। কিন্তু একজনও এসে বলেন না, আমার এলাকায় প্রাথমিক স্কুলগুলো সুন্দর নেই। প্রাথমিক স্কুলগুলো সরকারি করেন।’

প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে এটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই চক্র ভাঙতে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে।

আলোচনায় পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান বিশেষ ব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট জটিলতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে আলাদা কোনো শিক্ষাকাঠামো গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান প্রমুখ।

এসআর
আরো দেখুন

Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
E-mail: online@dailyobserverbd.com mailobserverbd@gmail.com
🔝