যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার পর লেবার পার্টির সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম।
স্টারমারের বিদায়ের পর দলীয় নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কার হাতে যাবে- এই প্রশ্নে বার্নহাম এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে যুক্তরাজ্য চার বছরে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে- এমন সম্ভাবনাও সামনে আসছে।
ইতোমধ্যে দলের ভেতরে একাধিক প্রভাবশালী নেতার সমর্থনও তার দিকে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে বার্নহামকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-তিনি এই উচ্চ দায়িত্বের জন্য কতটা প্রস্তুত?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহামের বড় শক্তি হলো তার জনপ্রিয়তা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি কার্যকর নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করেছেন বলেও অনেকে মনে করেন।
তবে জাতীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা সীমিত- এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তিনি এখনো পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ পদে কাজ করেননি এবং পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও বৈশ্বিক কূটনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। দলের ভেতরে কিছু নেতা মনে করছেন, এমন একজন ব্যক্তি খুব দ্রুত প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, যিনি সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীও ছিলেন না এবং মাত্র অল্প সময় আগে আবার জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন।
অন্যদিকে তার সমর্থকরা বলছেন, বার্নহাম একজন 'ভোট জেতার সক্ষম নেতা' এবং তিনি বিশেষ করে উত্তর ইংল্যান্ডে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম।
তবে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবা এবং নিরাপত্তা খাতে তিনি কী ধরনের নীতি নেবেন- তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে দলের ভেতরে যেমন তাকে ঘিরে আশা তৈরি হয়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তাও। লেবার পার্টির আগামী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে-বার্নহাম সত্যিই কতটা প্রস্তুত, না কি তিনি এখনো জাতীয় নেতৃত্বের জন্য একটি 'অপরীক্ষিত বিকল্প' হিসেবেই থেকে যাচ্ছেন।
এমএ