সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শনিবার (২১ জুন) পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন- যে মুহূর্তে আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, আর পানি জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তখন আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে বাধ্য হব।
তিনি দাবি করেন, ভারত যদি পাকিস্তানের পানি সরবরাহে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করে এবং এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিকসহ সব ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করবে।
গত এপ্রিল মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর ভারত ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। নয়াদিল্লির দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ জলচুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার পানির বড় একটি অংশ ব্যবহারের অধিকার পেয়ে থাকে পাকিস্তান। দেশটির কৃষি ও সেচব্যবস্থা এই পানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
খাজা আসিফ অভিযোগ করেন- ভারত পানিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, চেনাব নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা এবং তথ্য বিনিময়ে অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তবে একই সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন- গত এক বছরে ভারতের জলপ্রকল্পগুলোতে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে পাকিস্তানের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। যদিও অতীতে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল একাধিকবার ভারতীয় জলপ্রকল্প পরিদর্শন করেছিল।
এদিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পানি সংকটও ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। দেশটির সিন্ধু ও বেলুচিস্তান অঞ্চলের বহু মানুষ বর্তমানে পানির ঘাটতির মুখোমুখি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সেচ খালে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে- সীমান্তবর্তী পানি বণ্টন নিয়ে ভারত-পাকিস্তান বিরোধের পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও বর্তমান সংকটকে আরও গভীর করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
টিএস