রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) নারী শিক্ষার্থীদের একমাত্র আবাসিক হল ‘শহীদ ফেলানী হল’-এর প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানার পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২২ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হলের নানা অব্যবস্থাপনা, নিম্নমানের খাবার এবং প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে কয়েকশ শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের ডাইনিং অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। প্রভোস্টের জন্য আবাসিক কোয়ার্টার বরাদ্দ থাকলেও তিনি হলে অবস্থান করেন না এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা-অভিযোগ শোনার ক্ষেত্রেও অনীহা দেখান। এমনকি ডাইনিংয়ের নিম্নমানের খাবার কিংবা খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়ে অভিযোগ জানালে শিক্ষার্থীদের ‘চিড়া-মুড়ি খেয়ে থাকার’ পরামর্শ দেন বলেও দাবি করেন তারা।
বিক্ষোভরত ছাত্রীরা আরও বলেন, কোনো সমস্যা নিয়ে প্রভোস্টের কাছে গেলে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। অফিসে গেলে ডাইনিং কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়, আর ডাইনিংয়ে গেলে আবার প্রভোস্টের কাছে যেতে বলা হয়। ফলে এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরেও সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না।
তাদের অভিযোগ, পাঁচতলা বিশিষ্ট হলটির রিডিং রুমে পড়াশোনার ন্যূনতম পরিবেশও নেই। পুরো রিডিং রুমে রয়েছে মাত্র তিনটি বেঞ্চ। এছাড়া বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক সেবায় সমস্যা দেখা দিলেও দিনের পর দিন তা সমাধান করা হয় না।
মধ্যরাতে আন্দোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, হলের ডাইনিং ও অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে, যা যৌক্তিক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত হল পরিদর্শন করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টা হলে অবস্থান করে শিক্ষার্থীদের দেখভাল করতে পারবেন—এমন একজন নতুন প্রভোস্ট নিয়োগের বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করছে। পাশাপাশি রিডিং রুমের সংকট নিরসনে প্রকৌশল বিভাগকে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধান এবং নতুন প্রভোস্ট নিয়োগের আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।
টিএস