চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এবং চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে নবনির্মিত ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’ (SODIC-CU) উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে এই কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন এবং চীনা প্রতিনিধি প্রফেসর ড. ফু বিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এই সেন্টার বাংলাদেশের ‘ব্লু ইকোনমি’ বা সুনীল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সমুদ্র সম্পদের সঠিক তথ্য আহরণ, মৎস্য খাত, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইটভিত্তিক এই তথ্যকেন্দ্র ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করবে, যা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ বলেন, স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এই উদ্যোগের মূল শক্তি হলো এর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা।
ইউজিসি সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম বলেন, এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় একটি নতুন মাইলফলক।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি চীনা সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এই গবেষণা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. মাও ঝিনহুয়া কেন্দ্রটির প্রযুক্তিগত দিক উপস্থাপন করেন। কেন্দ্র পরিচালক ও সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরেন।
চীনা প্রতিনিধি ড. ফু বিন দুই দেশের গবেষণা সহযোগিতা আরও জোরদারের আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনের আগে চবি বিএনসিসি প্রতিমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল আলোচনা সভা শুরু হয়। অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ এবং স্মারক উপহার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ বিপুল সংখ্যক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাহমিদা খানম।
এমএ/আরএন