কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জে এম জি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সময়সূচি ও স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে আগে ভাগেই ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) পরীক্ষা গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া হঠাৎ এভাবে পরীক্ষা নেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা।
বোর্ডের নিয়ম লঙ্ঘন করে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলার এই ঘটনার পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন বা নেপথ্যে মতলব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
বুধবার সকালে সরেজমিনে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক (প্র্যাক্টিক্যাল) পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অথচ যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা এবং প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে একযোগে এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। হঠাৎ করে কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই বোর্ডের রুটিন না মেনে আগে ভাগে পরীক্ষা নেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে সাধারণ পরীক্ষার্থীরা।
ওই কেন্দ্রের বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী আরাফাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, 'বোর্ডের রুটিন দেখে আমরা মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম যে ৭ তারিখ থেকে আমাদের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা হবে। সেই অনুযায়ী আমরা খাতা তৈরি ও রিভিশন দিচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে কেন্দ্র থেকে আমাদের ডেকে এনে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়েছে। এত কম সময়ে আমরা কোনো ভালো প্রস্তুতিই নিতে পারিনি।'
বোর্ডের দেওয়া রুটিনকে তোয়াক্কা না করে এভাবে আগে ভাগেই পরীক্ষা নেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরাও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রের এক শিক্ষক বলেন, 'শিক্ষা বোর্ডের একটা সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলা থাকে। বোর্ড থেকে যে তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এখানে নিয়মের কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।'
নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার সোহেল রানা উল্টো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, 'কেন্দ্র সচিব চাইলে তার সুবিধামতো সময়ে আগে পরীক্ষা নিতে পারেন। আমরা ৩ ও ৪ জুন (বুধ ও বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা নেব। এরপর আবার বোর্ডের দেওয়া নির্ধারিত তারিখ অর্থাৎ ৭ তারিখ থেকেও পরীক্ষা নেওয়া হবে।'
তবে বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কেন্দ্র সচিবের এমন একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো আইনগত এখতিয়ার আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (একাডেমিক সুপারভাইজার) কামাল হোসেন বলেন, 'বোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে নির্ধারিত তারিখের আগে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। জে এম জি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়মের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অনিন্দ্য গুহ বলেন, 'শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা ও নির্ধারিত রুটিন অমান্য করে আগে ভাগে পরীক্ষা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
উল্লেখ্য, এই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে এলাকাবাসী জানান।
এসআই/এমএ