দীর্ঘ দুই দশক পর আজ শনিবার কক্সবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একদিনের সফরে সকাল ১০টায় বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছে তিনি সদর উপজেলার পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করবেন এবং সেখানে এক পথসভায় বক্তব্য রাখবেন।
এরপর সড়কপথে চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। বেলা ১২টায় সাফারি পার্কে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
বৃক্ষরোপণ ও পার্ক পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলা সদরের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা সোয়া ১টার দিকে তিনি পাশের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার উদ্দেশে রওনা করবেন। সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আবার পেকুয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বেলা সোয়া ২টার দিকে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি।
পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
চকরিয়ার জনসভা শেষে বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের উদ্দেশে রওনা করবেন। রাত ৮টায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন শেষে কক্সবাজার শহরের লং বিচ হোটেলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন। পরে রাত ১০টায় বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
এদিকে দীর্ঘ দুই দশক পর কক্সবাজার আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ সফরকে ঘিরে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটবে। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে দলের নেতা-কর্মীরাও উজ্জীবিত।”
প্রধানমন্ত্রীর একদিনের টানা কর্মসূচি সফল করতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
১৯৭৯ সালের ৪ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে স্বেচ্ছাশ্রমে পাতলী খাল খননের কাজে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। স্মৃতিবিজড়িত সেই পাতলী খালই দীর্ঘ ৪৭ বছর পর আবার পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খালটির পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করবেন।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন বলেন, “প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে।”
স্থানীয় মিয়াজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, “বাপ-দাদাদের কাছ থেকে শুনেছি, এই খাল খননের পর এলাকায় কৃষিতে বড় পরিবর্তন এসেছিল। এখন আবার খালটি খনন হলে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।”
পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ বলেন, “খাল খননের দিনটি ছিল ঐতিহাসিক। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো এলাকাকে উৎসবমুখর করে তুলেছিল। পরে খালটি দেখতে তৎকালীন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারা এবং নেপালের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীও এসেছিলেন।”
কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, “জিয়াউর রহমানের কোদাল হাতে মাটি কাটার যে ছবি দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিল, জনশ্রুতি রয়েছে সেটি পাতলী খাল খননের সময়ই তোলা হয়েছিল। তাই খালটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নও।”
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে পিএমখালীর মাইজপাড়া ও গোলারপাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় ৫০ ফুট দীর্ঘ মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের আশা, অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পুরো কক্সবাজারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় তিন হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে জেলার বাইরে থেকে আনা অতিরিক্ত সদস্যও রয়েছেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।”
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এসইউ/আরএন