ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
জাবের কার অনুমতি নিয়ে মামলার বাদী—প্রশ্ন হাদীর বোনের?
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম আপডেট: ০৫.০৬.২০২৬ ৯:২৫ পিএম
X
Advertisement

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ ও আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন তার বোন মাসুমা হাদি। সেখানে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের কেন মামলার বাদী হয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ঘটনার সমসাময়িক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং মামলার বাদীর স্বাক্ষর নেওয়া প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মাসুমা হাদি লিখেছেন, আমি আমার ভাইয়ের মামলার বাদী নিয়ে কিছুই বলতে চাচ্ছিলাম না। কারণ এর চেয়েও অনেক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র চালিয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে।

সেই বিষয়েও এখন অব্দি আমি মুখ খুলিনি, শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের জন্য। আমি মুখ খুললে সবার একটাই প্রশ্ন সামনে আসবে যে, আমার ভাইয়ের আশেপাশে যারা থাকে, তার পরিবারকে নিয়ে এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে কীভাবে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু দুই দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ভাইয়ের মামলার বাদী হওয়া নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি হচ্ছে, বাধ্য হয়ে আজকে সম্পূর্ণ বিষয়টা পরিষ্কার করলাম।

ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিনের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি লেখেন, আমার ভাই যেদিন গুলিবিদ্ধ হলো, সেই সংবাদ শোনা মাত্র আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই এবং সরাসরি এভার কেয়ার হাসপাতালে চলে যাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকে এক মিনিটের জন্য আমি হাসপাতাল ছেড়ে বাসায় যাওয়া তো দূরের কথা, ওসমান গণিকে (শরীফ ওসমান হাদি) ছেড়ে ১ মিনিটের জন্যও আমি নিচতলায় পর্যন্ত যাইনি।

তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রেখে বলেন, এখন আমার প্রশ্ন—প্রশাসনের লোক এভার কেয়ারে এসে জাবেরের কাছ থেকে সাইন নিল কেন? আর আমি উপস্থিত থাকাকালীন জাবের সাইন দিবে কেন? এ নিয়ে আমি বহুবার প্রশ্ন করেছি। আমাকে বুঝানো হয়, যে ওমরের (ওসমান হাদির ভাই) কাছে নাকি গিয়েছিল, ওমর বলছে এখন আমরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। চিকিৎসা সম্পন্ন হলে এই বিষয়গুলো দেখা যাবে।

চিকিৎসা ব্যতীত এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবতে পারছি না। উল্লেখ্য যে, এ ধরনের অতি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলায় বাদীর ঘরে স্বাক্ষর আগে–পরে করা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এমনকি বাদীপক্ষ থানায় মামলা না করলেও পুলিশ উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার আইনি কার্যক্রম চালাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমি জানতে চাই, ঐ মুহূর্তে ওমরের মানসিক অবস্থা কী ছিল—সেটা সবারই অনুভব করার কথা। ওসমান গণির রক্তে ওমর ফারুক রক্তাক্ত ছিল, কারণ একই রিকশায় দুই ভাই। বুলেট যদি আরেকটা বের হতো, ওমর ওখানেই আমার ওসমান গণির মতো হয়ে যেতো। ওমরের গায়ে পোশাকে এমনকি তার হাতে যে ঘড়িটা ছিল, সেটিতেও ওসমান গণির রক্তের দাগ শুকিয়ে ছিল। ওসমান গণিকে যেদিন সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে, সেই দিন সকালে ওমর এভার কেয়ারে বসে গোসল করে এবং ঘড়িতে যে রক্তের দাগ ছিল তা পরিষ্কার করে।

তিনি বলেন, মামলার বাদীর ব্যাপারে কার কাছে বলা হয়েছে, কে বলেছে যে আমরা নিরাপত্তার জন্য বাদী হতে চাই না—এটা পরিষ্কার করতে হবে। জাবের যদি আমার নলছিটির ছেলে না হতো, তা হলে কোনো প্রশ্ন ছিল না। কারণ আমার ওসমান গণির সাথে যারা দীর্ঘদিন চলাফেরা করছে, এমন কোনো লোক নাই যারা জানে না ওসমান গণির জীবনে তার ছোট আপু কতটা জড়িত। এবং তার ছোট আপু ওসমান গণির জন্য জীবন দিতে এক সেকেন্ডও চিন্তা করে না। সেই ছোট আপুর কাছে না এসে কার অনুমতি নিয়ে জাবের মামলার বাদী হলো—এটা পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এখন আসি চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতে। আমার ভাই যখন এভার কেয়ারে তখন অনেকেই তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। আমরা পারিবারিকভাবে কেউ তাতে সম্মতি জানাইনি। আমার ওসমান গণিকে দেশের বাইরে নেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম ওমর ফারুক ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেয় এবং ওসমান হাদির সকল মেডিকেলের ডকুমেন্ট প্রথমে সিঙ্গাপুর পাঠায়, কিন্তু সিঙ্গাপুর থেকে তা রিজেক্ট করে দেওয়া হয়। এরপর ওমর থাইল্যান্ডে মেডিকেলের ডকুমেন্ট পাঠালে তারা গ্রহণ করে। ওমর একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে থাইল্যান্ডের জন্য ৫২ লাখ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আনে এবং আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে, আর কাঁদিস না, চিকিৎসার অভাবে ওসমান গণিকে আমরা হারাতে দেব না। আল্লাহ যদি হায়াত রাখে, ওসমান গণি ফিরে আসবে—চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখব না। ওমরের এই সিদ্ধান্ত সরকার জানার পরে সরকার ওসমান গণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় এবং সরকার দ্বিতীয় দফায় তার মেডিকেলের কাগজপত্র সিঙ্গাপুর পাঠালে তারা গ্রহণ করে এবং ওসমান গণিকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। আর আমি ওসমান গণির সাথে এভার কেয়ার থেকে এই প্রথম বের হই।

তিনি বলেন, আমি এগুলো কিছুই কাউকে জানাতে চাইনি। কারণ আমার জন্য ওসমান গণিকে হারিয়ে বেঁচে থাকা কত কঠিন হয়ে যাচ্ছে, সেটা আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার বুকে কারো বোঝা সহজ নয়। কিন্তু বাধ্য হলাম, কারণ একজন বিপ্লবীকে সম্মান করতে হলে তার পরিবারকে নিয়ে কীভাবে এত মিথ্যাচার করা যায়? সম্মান করতে না পারেন, কিন্তু কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কোথায় পেলেন।

আরএন
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement