লালমনিরহাটের তিনটি পৃথক সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
শুক্রবার ভোরে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৫ বিজিবি ও ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তারা।
বিজিবির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধীন বড়খাতা বিওপি এলাকায় ভোর ৫টার দিকে ১১ জন এবং পয়ষট্টিবাড়ি বিওপি এলাকায় আরও ১০ জনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে বড়খাতা এলাকায় ৩ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী এবং পয়ষট্টিবাড়ি এলাকায় ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী ছিলেন।
খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে পুশইনের শিকার ব্যক্তিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন দুর্গাপুর ও দিঘলটারী বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার ৯২৫ ও ৯২৭-এর নিকট ভারতীয় অংশে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করে। পরে বিজিবি সদস্যরা মাইকে সতর্কবার্তা দিলে তারা ভারতীয় সীমান্তের ভেতরেই অবস্থান নেয়। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রতিপক্ষ ৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন। স্থানীয়রাও বিজিবির সঙ্গে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই ভারত থেকে লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেব না। বিএসএফের এ ধরনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।”
বড়খাতা সীমান্তের বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, বিজিবির বাধার মুখে লোকজন এখনো ভারতীয় অংশে অবস্থান করছে। এলাকাবাসীও বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেন, “অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা আমরা প্রতিহত করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছি। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।”
এমএস/আরএন