নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন, দ্রুত তদন্ত এবং উচ্চ আদালতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন।
রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা পুরো জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা বাড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, তদন্তে গাফিলতি, ফরেনসিক রিপোর্ট পেতে বিলম্ব, সাক্ষী সুরক্ষার অভাব এবং উচ্চ আদালতে মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এলিনা খান অভিযোগ করেন, অতীতে বহু আলোচিত মামলায় তদন্ত ত্রুটি ও বিচার বিলম্বের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রামিসার বাবার বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন বাবার মুখে ‘আমি বিচার চাই না’—এ ধরনের মন্তব্য রাষ্ট্রের প্রতি গভীর অনাস্থার প্রতিফলন। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হত্যা মামলার জন্য বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলাগুলো উচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন ঝুলে না রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত পেপারবুক প্রস্তুত ও শুনানি সম্পন্নের আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া মামলার সাত দিনের মধ্যে সুরতহাল, পোস্টমর্টেম, ডিএনএ, ভিসেরা ও অন্যান্য ফরেনসিক রিপোর্ট সম্পন্নের দাবি জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট দাখিল না হলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
একইসঙ্গে সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, দ্রুত শুনানি এবং উচ্চ আদালতে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে এলিনা খান বলেন, “ধর্ষণ ও হত্যার পর কেউ পার পাবে না—এ বার্তা স্পষ্ট করতে হবে।”
এসআর