২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন মাঠে গড়াবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। এরই মধ্যে ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেয়েছে জি এন্টারটেইনমেন্ট।
তবে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা।
সোমবার জি এন্টারটেইনমেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পাশাপাশি ২০৩৪ সাল পর্যন্ত আরও ৩৮টি ফিফা ইভেন্ট সম্প্রচারের স্বত্ব অর্জন করেছে। যদিও চুক্তির আর্থিক শর্ত প্রকাশ করা হয়নি, ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, চুক্তিটির মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এর ফলে ভারতের দর্শকরা তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বকাপ উপভোগের সুযোগ পাবেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা শুরুতে ভারতের সম্প্রচার প্যাকেজের জন্য ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দাবি করেছিল। পরে সেই মূল্য কমিয়ে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে আনা হয়। এর আগে ১৫ মে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিএমজি প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলারে ২০২৬ বিশ্বকাপের একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নেয়।
ভারত ও চীনে সম্প্রচার স্বত্ব চূড়ান্ত হলেও বাংলাদেশের দর্শকরা এখনো জানেন না কোথায় তারা বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন। বাংলাদেশে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ১ কোটি ২৩ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৫১ কোটি টাকা) দাবি করেছে। কর, অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট যোগ হলে মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এই বিপুল ব্যয়ের কারণে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি কিংবা দেশের কোনো বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন এখন পর্যন্ত স্বত্ব কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। মূলত উচ্চমূল্যের কারণেই বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যয় কমিয়ে দেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের উপায় খুঁজতে এখনো আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে নতুন করে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের কয়েকটি বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম যৌথভাবে স্বত্ব কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে টি-স্পোর্টস ও স্টার নিউজের অংশীদারিত্বে একটি উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি দুবাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
এদিকে সরকার রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে বিনামূল্যে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের প্রস্তাব দিলেও ফিফা তাতে সম্মতি দেয়নি।
আরএন