ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা যে কারণে এভাবে হারল
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫৭ এএম আপডেট: ২০.০৭.২০২৬ ৮:৫৯ এএম
X

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চ শেষে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। ফেররান তরেসর ১০৬ মিনিটের গোলে নির্ধারিত হয় শিরোপার ভাগ্য। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরল। 

ম্যাচের পুরো চিত্র বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কেন এই হার তাদের প্রাপ্য ছিল। নিচে তুলে ধরা হলো পাঁচটি প্রধান কারণ।

১. পুরো ম্যাচে আক্রমণের ছিটেফোঁটাও ছিল না
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের নিষ্ক্রিয়তা ছিল রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধে তারা একটি কর্নারও আদায় করতে পারেনি, প্রতিপক্ষের বক্সে কোনো কার্যকর ছোঁয়া ছিল না, আর গোলের উদ্দেশ্যে কোনো শটও নেয়নি। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত স্পেন যেখানে দশটির বেশি শট নিয়ে ফেলেছিল, আর্জেন্টিনার খাতা তখনো শূন্য। পুরো নির্ধারিত সময়ে তারা কার্যত কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে মেসির একটি দূরপাল্লার শট আর জুলিয়ানো সিমিওনের একটি সুযোগ ছাড়া বলার মতো কিছুই ছিল না। এমন খরা নিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতা প্রায় অসম্ভব।

২. স্পেনের আধিপত্যে আর্জেন্টিনার হাঁসফাঁস
পুরো ম্যাচে বল দখলে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে স্পেন। মধ্যমাঠে রদ্রি-পেদ্রিদের নিয়ন্ত্রণ আর লামিনে ইয়ামাল-নিকো উইলিয়ামসদের প্রান্তিক গতিতে আর্জেন্টিনা রীতিমতো নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ পায়নি। স্পেনের প্রেসিং এতটাই কার্যকর ছিল যে আর্জেন্টিনা বল পেয়েও বেশিক্ষণ রাখতে পারছিল না। এই পরিস্থিতিতে দলটি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে এবং পাল্টা আক্রমণ তৈরির সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলে।

৩. এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড—টার্নিং পয়েন্ট
নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এনজো ফার্নান্দেজকে। এমি মার্তিনেজের একটি দুর্দান্ত সেভের পর ফিরতি বলে কুবারসির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফলে অতিরিক্ত সময়ের পুরোটাই আর্জেন্টিনাকে খেলতে হয় দশজন নিয়ে। এমনিতেই আক্রমণে ভুগতে থাকা দলের জন্য এক খেলোয়াড় কম নিয়ে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট টিকে থাকা ছিল প্রায় অসাধ্য কাজ।

৪. বিচ্ছিন্ন মেসি
লিওনেল মেসিকে ঘিরেই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ বিশ্বকাপ স্বপ্ন, কিন্তু পুরো ম্যাচে তাকে কার্যত একা ফেলে রাখা হয়। খেলোয়াড় বদলের পর একপর্যায়ে দলটি কার্যত পাঁচজন ডিফেন্ডার ও তিন মিডফিল্ডারের সঙ্গে একমাত্র আক্রমণভাগে মেসিকে রেখে খেলতে বাধ্য হয়—বল সরবরাহের অভাবে যা তাকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে দেয়। হুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলাফল—আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র শেষ পর্যন্ত ধারালো হয়ে ওঠার সুযোগই পায়নি।

৫. রক্ষণের ভুল
অতিরিক্ত সময়ের বিরতির পরপরই, মাত্র সাঁইত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে আর্জেন্টিনা। ডানপ্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর ক্রস, নিকো উইলিয়ামসের হেড হয়ে বল পৌঁছায় ফেররান তরেসর কাছে, আর তিনি তা জালে জড়ান। সেট-পিস ও ক্রস সামলানোয় দুর্বলতা পুরো ম্যাচেই কিছুটা ভুগিয়েছে আর্জেন্টিনাকে, আর ঠিক সেই জায়গা থেকেই আসে সিদ্ধান্তসূচক গোলটি। এরপর দশজনের দল নিয়ে সমতায় ফেরার মতো আক্রমণাত্মক সামর্থ্য আর অবশিষ্ট ছিল না।

শেষ পর্যন্ত এমি মার্তিনেজের একের পর এক সেভ আর্জেন্টিনাকে বহুক্ষণ ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও আক্রমণে চূড়ান্ত ব্যর্থতা, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো আর লাল কার্ডের ধাক্কা—সব মিলিয়ে শিরোপা হাতছাড়া হলো লিওনেল স্কালোনির দলের। বিপরীতে সংঘবদ্ধ, ধৈর্যশীল আর কৌশলগতভাবে নিখুঁত পারফরম্যান্স দেখিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতে নিল স্পেন।

এসএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝