ইরানের ভূগর্ভস্থ পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের গভীরে হাজার হাজার পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। মাটির অনেক গভীরে এসব সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করায় বিমান হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে। ইসরায়েলি মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পরপরই তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের গভীরে সরিয়ে নেয়।
ওই সংঘাতের সময় ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, পাহাড়টির সামনের প্রবেশপথে সরাসরি বড় ধরনের আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ইরানের পারমাণবিক পরিস্থিতি ভালো অবস্থায় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই ওই স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ট্রাকের চলাচল দেখা গেছে। এর ফলে ইরান ওই এলাকায় তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ বা পুনরায় সক্রিয় করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এসব গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি।
-টিএস