
সংগৃহীত ছবি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যামূলক মানসিকতা’ অনুসরণের অভিযোগ তুলে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান বলেন, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তা যেন বিশ্বের কাছে স্বাভাবিক কোনো ঘটনা হয়ে না যায়।
তিনি জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এরদোয়ানের অভিযোগ, ৮১ বছর আগে বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংস্থাটি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না।
এরদোয়ান বলেন, ফিলিস্তিন, লেবানন ও সুদানের পরিস্থিতির মধ্যে জাতিসংঘকে কার্যত ‘অকার্যকর’ করে দেওয়া হয়েছে এবং সংস্থাটি ‘রক্তক্ষরণ’ অবস্থায় রয়েছে।
ভাষণে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের জাতিসংঘ অধিবেশনে অনুপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন এরদোয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় আব্বাস সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে পারেননি। এরদোয়ান বলেন, আব্বাস উপস্থিত না থাকলেও তুরস্ক ফিলিস্তিনের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলে যাবে।
তিনি একই সঙ্গে যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর কথা বলেন।
এরদোয়ান তাঁর বক্তব্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি যুদ্ধের অবসানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত।
ইসরায়েল অবশ্য গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এফএস