নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে দূতাবাসের মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও নেপালের জাতীয় সংগীত পরিবেশন, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। এ ছাড়া ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এ তথ্য জানান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং রাষ্ট্র গঠনে এ দিনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে দেশের জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় তার অবদানের কথা তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এদিন সহকর্মী সেনাসদস্য ও সাধারণ জনগণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, স্বাধীনতার ঘোষক, বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে গভীর সংকট থেকে দেশকে উত্তরণের দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত হয়।
রাষ্ট্রদূতের মতে, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমানের আবির্ভাব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী রাজনীতির পথিকৃৎ হিসেবে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও তার দীর্ঘস্থায়ী অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বক্তব্যনির্ভর রাজনীতির পরিবর্তে উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা এবং নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় ইস্যুগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন।
জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি জাতীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টায় প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নেপালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সার্ক, ইসিমোডসহ (ICIMOD) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ প্রায় ১০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
টিআই