ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাতভর বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু। হামলার কারণে কিয়েভে বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) মধ্যরাতে চালানো এ হামলায় একাধিক দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকোর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, হামলায় দনিপ্রো নদীর ওপর অবস্থিত নর্দার্ন ব্রিজের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প খাত এবং জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিয়েভের নর্দার্ন ব্রিজ এবং মেরিডিয়ান কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে। সেতুটি ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও যানবাহন পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করেছে মস্কো। অন্যদিকে, মেরিডিয়ান কারখানায় ফ্লামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরও দাবি, কিয়েভ অঞ্চলের কয়েকটি জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র এবং গোলাবারুদ তৈরির কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া ঝিতোমির অঞ্চলের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের উদ্দেশে সামরিক সরঞ্জাম ও দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী পণ্য বহনকারী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে রাশিয়া।
এদিকে কিয়েভ অঞ্চলের অন্তত তিনটি জেলার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো। কিয়েভের বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটজনক বলে বর্ণনা করেছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। হামলার কারণে সেতুটিতে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মধ্যে নতুন করে এ আক্রমণ চালানো হলো। এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশটির সাতটি অঞ্চলে রুশ হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। ইউক্রেনের উপ-জ্বালানিমন্ত্রী আর্তেম নেকরাসভ জানিয়েছিলেন, রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন।
সূত্র: রয়টার্স
এসএস