জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি, সিপাহি-জনতার ঐক্য এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্মিত দুটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সিপাহি-জনতার অংশগ্রহণ এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
পরে আয়োজিত আলোচনা সভায় জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই সময় সিপাহি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা ঐক্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। দিবসটির চেতনা প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
আলোচনা সভায় সমাপনী বক্তব্য দেন দূতাবাসের কাউন্সেলর ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মুহাম্মদ সফিউল আজম। তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংকটের প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ সময় তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক এ দিনের চেতনা ধারণ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণ করা হয়।
-টিএস