শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের দুর্ভিক্ষ, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতার রাজনীতির বিপরীতে জিয়াউর রহমান ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেন। তার কারণেই আজ বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের নান্দাইলের চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তীসময়ে বাংলাদেশ যখন হুমকির মুখে পড়েছে এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। জিয়াউর রহমানের পরিবারের কারণেই তারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একটি কুচক্রী মহল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণহত্যা, লুটপাট ও অর্থপাচার হয়েছে। এসব ঘটনার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। শিশু, নারী ও পুরুষ হত্যার বিচারও করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা নাকি বাংলাদেশে আসবেন। কিন্তু আমরা ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না, এখন আসেন। আপনাদের আসতে হবে না, আমরা হ্যান্ডকাপ পরিয়ে নিয়ে আসব। আপনাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’
আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৭ বছরের শাসনামলের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে মানুষের ভোটাধিকার হরণ, গ্রেফতার, গুম ও হত্যার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় স্বাধীনতা পেয়েছে। এই স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না। জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।
তিনি আরও বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিজয়ী করেছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে বিএনপির সঙ্গে থাকতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র বা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লিটন, সদস্য সচিব এনামুল কাদির, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল খায়ের বাবুলসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
টিআই