বান্দরবান সদরের কালাঘাটা বড়ুয়ার টেক এলাকার আম্রকানন গৌতম বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বিহার পরিচালনা কমিটি ও দায়ক-দায়িকাদের আয়োজনে এবং বিত্তহীন বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির সহযোগিতায় এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
বিশ্বশান্তি ও সকলের মঙ্গল কামনায় ভোর ৫টায় সূত্রপাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষুসংঘের প্রাতরাশ, বুদ্ধমূর্তি দান, বুদ্ধপূজা, অষ্টপরিষ্কার দান, মহাসংঘদান ও কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ধর্মদেশনারও আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চীবর উৎসর্গ, শীল প্রদান ও ধর্মদেশনা করেন লোহাগাড়া লক্ষণখীল জ্ঞানোদয় বৌদ্ধবিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত উপ-সংঘরাজ ধর্মদর্শী মহাস্থবির, বিবিবিলা শান্তি বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত সুমঙ্গল মহাস্থবির, জ্ঞানরত্ন বৌদ্ধবিহারের বিহারাধ্যক্ষ কর্মবীর ভদন্ত সত্যজিত মহাস্থবির, কলাউজান মৈত্রী বৌদ্ধবিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত বিপুলানন্দ স্থবির, অষ্টবিংশতি বুদ্ধ মন্দির রত্নপ্রিয় বির্দশন ভাবনা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ভদন্ত রত্নপ্রিয় মহাস্থবির, বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত চন্দ্রজ্যোতি স্থবির এবং আম্রকানন গৌতম বিহারের বিহারাধ্যক্ষ ভদন্ত বিনয়শীল আর্যলোক স্থবিরসহ বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শ্রী কে এস মং।
এ সময় বান্দরবানের নোয়াপতং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শম্ভু কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, আদিবাসী ফোরাম বান্দরবান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উছোমং মারমা, সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহার পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি বেসান্ত বড়ুয়া, আম্রকানন গৌতম বিহার পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা ও শিক্ষক দেবমিত্র বড়ুয়া, সভাপতি শ্যামল বড়ুয়া, কার্যকরী সভাপতি সুমন বড়ুয়া, সহসভাপতি প্রকৃতি বড়ুয়া ও সুলাল বড়ুয়া এবং বিত্তহীন বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন বড়ুয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিহারের দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও উৎসবে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, কঠিন চীবরদানের বিশেষ প্রক্রিয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে সেই সুতা দিয়ে নতুন চীবর প্রস্তুত করা হয়। পরে তা ভিক্ষুসংঘকে দান করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যে এ দানকে বিশেষ পুণ্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কায়িক, বাচনিক ও মানসিক পুণ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এতে অংশ নেন।
কঠিন চীবরদান উপলক্ষে বান্দরবানের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারেও মাসব্যাপী ধর্মীয় আয়োজন চলছে। এসব আয়োজনে চীবর তৈরি ও ভিক্ষুসংঘের কাছে তা উৎসর্গ করা হচ্ছে।
এসএস