খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১-এর মাল্টিপারপাস রুমে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকাল ১১টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস।
প্রধান আলোচক তাঁর বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনৈতিক ও কৃষি উন্নয়ন এবং পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসার, কৃষি ও সেচ খাতের উন্নয়ন এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান পুনরায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষ আলোচক কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস তাঁর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের আঞ্চলিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভূমিকার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের সংকটময় রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, যা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
উপাচার্য আরও বলেন, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এ দিবসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের স্বার্থে মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্বেষ, বিভেদ ও সংঘাত পরিহার করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও সহনশীলতা জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য উপলব্ধি করার পাশাপাশি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হবে। একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষা, গবেষণা, কৃষি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষির আধুনিকায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় তিনি জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান। সভাপতির সমাপনী বক্তব্য, বিশেষ দোয়া ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দুপুর ১টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএম/এসএস